![]() |
| Photo: Peoplesdispatch |
ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মধ্যেই ৫০টি জাহাজের ফ্লোটিলা গাজার দিকে এগিয়ে চলেছে। ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ অভিযানের সর্বশেষ অবস্থান, ইসরায়েলের প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ গাজা উপকূলের ৩৫০ মাইল দূরে, তিন দিনের মধ্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের মধ্যেই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ (গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা) নামের একটি আন্তর্জাতিক নৌঅভিযান এগিয়ে চলেছে। ফ্লোটিলার নেতৃত্বদানকারী সদস্যরা জানিয়েছেন, জাহাজগুলো এখন গাজা উপকূল থেকে মাত্র ৩৫০ মাইল (৫০০ কিলোমিটারের কম) দূরে অবস্থান করছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তারা গাজার উপকূলে পৌঁছাতে পারে ।
বৃহত্তম ফ্লোটিলা অভিযান
প্রায় ৫০টি জাহাজ নিয়ে গঠিত এই ফ্লোটিলা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নৌঅভিযান বলে দাবি করছেন আয়োজকরা। ৪০টি দেশের ৫০০ জনের বেশি সক্রিয়তাবাদী এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন। ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন, গ্লোবাল গাজা মুভমেন্ট এবং ‘স্টেডফাস্টনেস কনভয়’-এর সমন্বয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।
ফ্লোটিলার স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য নাবিল শানুফি জানিয়েছেন, গ্রিস ইতিমধ্যে ফ্লোটিলাকে এসকর্ট করার জন্য একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এর আগে স্পেন ও ইতালিও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, যা এই অভিযানে ইউরোপীয় সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয় ।
ইসরায়েলের কঠোর প্রস্তুতি
অন্যদিকে, ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার জানিয়েছে, ফ্লোটিলা ইহুদি ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র দিন ইয়ম কিপ্পুরের সময় গাজায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও চিকিৎসা প্রস্তুতি জোরদার করেছে ।
ইসরায়েলি নৌবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সেস সম্প্রতি খোলা পানিতে জাহাজ আটকানো ও অভিযান চালানোর মহড়া চালিয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করেছে, সরকার ফ্লোটিলা আয়োজকদের আশকেলন বন্দর, সাইপ্রাস বা ভ্যাটিকানের মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প পথ প্রস্তাব করেছিল, যা তারা প্রত্যাখ্যান করেছে ।
পূর্ববর্তী ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সতর্কতা
এর আগে গত জুন ও জুলাই মাসে ‘ম্যাডেলিন’ ও ‘হান্দালা’ জাহাজ দুটি ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছিল। ফ্লোটিলার আগের অভিযানে এক ডজনেরও বেশি জাহাজ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে ।
ওপেন আর্মসের অপারেশন প্রধান জেরার্ড কানালস বলেছেন, “এই ফ্লোটিলা প্রতীকী হলেও এর উদ্দেশ্য খুবই বাস্তব - মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসা কর্মী মোতায়েন করা এবং গাজার ওপর নিষেধাজ্ঞা ভেঙে দেওয়া। এটি গাজার পরিস্থিতি বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ” ।
সূত্র: রয়া নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি, এলপ্লুরাল
